নতুন বিজয়ীর মাথায় মুকুট পরিয়ে দেন আগের বছরের বিজয়ী—এটাই সুন্দরী প্রতিযোগিতার রীতি। অথচ ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৮ ’-এর অনুষ্ঠানে ডাকাই হয়নি ২০১৭–এর মুকুটজয়ী জেসিয়া ইসলামকে। অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি পাঁচ বিচারকের একজনকে, গণ্যমান্য অতিথিদের বসার জায়গাও ছিল না।
আর ফেসবুকে তো আগেই প্রকাশিত হয়ে গিয়েছিল প্রতিযোগিতার ফল। ভার্চ্যুয়াল জগতে এ নিয়ে দিনভর কানাঘুষা করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। কেউ কেউ তো বলেই ফেলেছেন, সুন্দরী প্রতিযোগিতার নামে তবে কি নির্বাচিত সুন্দরী যাচ্ছেন বাংলাদেশ থেকে? ফলাফল প্রকাশের পর থেকে এমনই সন্দেহ করছেন বিনোদনজগতের অনেকে। উল্লেখ্য, গত বছরের আয়োজনেও বিজয়ী নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল।
গত রোববার সন্ধ্যায় ঢাকার বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারের রাজদর্শন মিলনায়তনে বসেছিল মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৮-এর গ্র্যান্ড ফিনালের আয়োজন। সেরা ১০ সুন্দরীর মধ্য থেকে পিরোজপুরের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশীকে সেরা নির্বাচন করা হয়। অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ছিলেন আজরা মাহমুদ, সনিকা ও নিরব।
ফলাফল ফাঁস
গ্র্যান্ড ফিনালের আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনামি ফোন এসেছিল ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ হবেন ঐশী। অনুষ্ঠানস্থলে ঢোকার পরও অনেককে বলতে শোনা গেছে সেটা। আয়োজক প্রতিষ্ঠান অন্তর শোবিজের চেয়ারম্যান স্বপন চৌধুরী অবশ্য এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘কত কিছুই তো শোনা যায়।’ তবে শেষমেশ গুঞ্জনই সত্যি হয়। এটিএন বাংলায় ‘লাইভ’ বিচারকার্য সম্পাদনার চিত্র দেখানো হলেও দিনভর যে প্রতিযোগীর নাম শোনা যাচ্ছিল, তিনিই পরেন বিজয়ীর মুকুট।
‘ভাইরাল’ প্রশ্নোত্তরপর্ব
এ বছর প্রশ্ন উঠেছে প্রতিযোগীদের মেধা নিয়ে। কেউ কেউ ভালো চোখে দেখেননি বিচারকদের প্রশ্ন করার ধরনকেও। এক প্রতিযোগীর কাছে বিচারক র্যা ম্প মডেল খালেদ সুজন জানতে চেয়েছেন, ‘এইচটুও (পানির রাসায়নিক সংকেত) কী?’ উত্তরে প্রতিযোগী বলেছেন, ধানমন্ডিতে এই নামে একটি রেস্টুরেন্ট আছে। প্রতিযোগিতা শেষ হতে না–হতেই ভাইরাল হয় এর ক্লিপ। এ ছাড়া প্রশ্নোত্তর পর্বের আরও কিছু অংশও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।
ছিলেন না বিচারক তারিন
মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ আয়োজনের শুরু থেকেই বিচারক হিসেবে দেখা গেছে কণ্ঠশিল্পী শুভ্র দেব, অভিনেত্রী তারিন, মডেল খালেদ সুজন ও ইমি এবং আইনজীবী ফারাবীকে। গ্র্যান্ড ফিনালেতে ‘আইকন বিচারক’ হিসেবে ছিলেন মাইলস ব্যান্ডের শাফিন আহমেদ ও হামিন আহমেদ এবং নৃত্যশিল্পী আনিসুল ইসলাম হিরু। চূড়ান্ত পর্বের আয়োজনে তারিনকে দেখা যায়নি। বিচারকদের একজন প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘আগে থেকেই জানতাম তারিন ফাইনালে থাকতে পারবেন না।’ তারিনের কাছ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।